মো. আবুল বাশার সরকার
কুমিল্লার হোমনায় বিয়ে বাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে লাউড স্পিকার বাজানো ও ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দু’গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে । এতে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। রবিবার উপজেলার ঘারমোরা বাজারে বড় ঘারমোড়া ও ফজুরকান্দির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় গ্রামের আহতরা হলেন- রাজিব (২৭), আসাব উদ্দিন (৩৫), আলম প্রকাশ কেট্টা (৫৫), আজগর আলী (৬০), রাজিব (২৭), জিলানী (৫০), অজিত (২২), ইকরাম (১৪), ইকবাল (২৫), শাহ ্অলম (৩২), কবির (২৮), নজুরুল (২৬), শুভ (২২), তানভির (১৬) ও আরিফ (২১)। আরও কয়েকজন চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছেন। এদের মধ্যে রাজিব মিয়া ও শাহ আলম, আলী আকবর, সাব মিয়া শুভ ও মোমেন মারাত্মক আহত। এদেরকে কুমিল্লা ও ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে । বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এদিকে এডিশনাল পুলিশ সুপার এম তানভির ও হোমনা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার স্পিনা রানী প্রামানিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড় ঘারমোড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের বাক প্রতিবন্ধী মেয়ের সাথে উপজেলার বাগমারা গ্রামের এক ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক হয় । বৃহস্পতিবার রাতে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে ডিজে মিউজিক চলার সময় পাশের ফজুর কান্দি গ্রামের রাসেল,ইমরান, অন্তর সহ ৮/৯ জন ছেলে গিয়ে মেয়েদের ছবি উঠাতে থাকে । এ সময় বড় ঘারমোড়া গ্রামের কয়জন ছেলে এসব ছবি ডিলিট করতে বলে, এ নিয়ে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে গত শনিবার সকালে বড় ঘারমোরা গ্রামের মো. সাব মিয়া বাজারে আসলে তার দুধ মাথায় ঢেলে দিয়ে অপমান করে এবং তাকে মারধর করে হুজুর কান্দি গ্রামের কয়েকজন ছেলে। এই ঘটনায় সাব মিয়ার ভাই জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে হুজুর কান্দি গ্রামের ১৫ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ ফজুরকান্দি গ্রামের বকুল নামের একজনকে গ্রেফতার করে। এই নিয়ে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল । রবিবার সকাল ৮টার দিকে দুই গ্রামের লোকজন ঘাড়মোড়া বাজারে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে ২০/২২ জন আহত হয় । এদের মধ্যে ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘারমোড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মোল্লা জানান,গত বৃহস্পতিবার বিয়ে বাড়িতে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে ছেলেদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে গত শনিবার একজনকে মারার ঘটনায় থানায় মামলা হলে একজন গ্রেফতার হয়। রবিবার বিষয়টি মিটমাট করার জন্য বসার কথাছিল। কিন্ত এর মধ্যেই ফজুরকান্দি ও বড় ঘারমোরা গ্রামবাসি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে । আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে নিয়ন্ত্রণ করে।
হোমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.আবুল কায়েস আকন্দ জানান, বড় ঘাড়মোয় একটি বিয়ে বাড়িতে ফজুর কান্দি গ্রামের কয়েকজন ছেলে ছবি তুললে ঐ গ্রামের লোকজন বাধা দেয়। এ ঘটনার জের ধরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে গত শনিবার একজনকে মারধর করে হুজুর কান্দি গ্রামের লোকজন । এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে ও একজন গ্রেফতার হয়েছে । এই ঘটনার জের ধরে আজ সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এখন পরিবেশ নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।
মো. আবুল বাশার সরকার
কুমিল্লার হোমনায় গলায় ফাঁস দিয়ে উপজেলা তথ্যকেন্দ্রের "তথ্যআপা" প্রকল্পের আউট সোর্সিং এর এমএলএসএস মো.মাইনউদ্দিন ওরফে টিটন(৩৫) আত্মহত্যা করেছেন। আজ রবিবার দুপুরে তার ভাড়া বাসায় গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ । সে উপজেলার হরিপুর গ্রামের মো. ফরিদ মিয়ার ছেলে ।
নিহত মাইনুদ্দিনের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সে পরিবার নিয়ে হোমনা সদরের বড় কান্দায় এক ভাড়া বাসায় থাকতেন। আজ রবিবার দুপুরে বাসায় খাবার খেতে এসে তাঁর ঘরে গিয়ে রশি দিয়ে ফাঁস দেন। পরে লোকজন পুলিশে খবর দিলে হোমনা থানার এসআই শামীম আহম্মেদ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
জানা গেছে,মাইন উদ্দিন ওরফে টিটনের স্ত্রী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। সে এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। ঘটনার সময় তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা মায়ের সাথে স্কুলে ছিলেন। কি কারণে মাইনউদ্দিন টিটন আত্মহত্যা করেছে, এ বিষয়ে তাঁর পরিবারের লোকজন কিছু বলতে পারেননি।
হোমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম সরকার জানান লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালে প্রেরন করা হবে ।